Saturday, 14 May 2016

বৃক্ষ আমাদের পরম বন্ধু

গোধূলি লগ্ন। উন্মুক্ত আকাশ কালো মেঘে ঢাকা। কখনো গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি, আবার কখনো রৌদ্র। কালো মেঘ ও সূর্যি মামার এ যেন এক লুকোচুরি খেলা। সূর্য ও মেঘের এ খেলার ফলে সৃষ্ট ভাপসা গরমে ক্লান্ত নাগরিক জীবন। প্রকৃতির প্রতিকূলতা উপেক্ষা করে নতুন কলাভবনের লেকের পাশে সমবেত হয়েছেন সবুজের সমারোহ জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) ক্যাম্পাসে বিভিন্ন বিভাগে অধ্যয়নরত কিছু প্রকৃতিপ্রেমী শিক্ষার্থী। তরুণ শিক্ষার্থীদের নতুন প্রজন্মের এই দল সবুজে ঢাকা সুন্দর একটা পৃথিবীর স্বপ্ন দেখে। সবুজপ্রেমী এই সচেতন তরুণ-তরুণীর দল কবিগুরুকে যেন অরণ্য ফিরিয়ে দিতে চায়।
'বৃক্ষনিধন রোধ করুন, পরিবেশ রক্ষা করুন'-স্লোগান প্রতিপাদ্য করে ১০ সেপ্টেম্বর জাবির কিছু মেধাবী শিক্ষার্থী সমাজে সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে বিভিন্ন প্রজাতির ঔষধি বৃক্ষ রোপণ করেন। এই বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির মধ্য দিয়েই সাংস্কৃতিক রাজধানীখ্যাত জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে কালের কণ্ঠ শুভসংঘের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়। জাবির ইতিহাস বিভাগের স্নাতকোত্তর শ্রেণির শিক্ষার্থী ইন্দ্রজিত ভৌমিককে আহ্বায়ক ও পাবলিক হেলথ অ্যান্ড ইনফরমেটিকস বিভাগের শিক্ষার্থী কনক আক্তারকে যুগ্ম আহ্বায়ক করে ২১ সদস্যবিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন ওয়ালিউল্লাহ মিঠু (প্রচার ও প্রকাশনাবিষয়ক সম্পাদক), হাফিজুর রহমান (শিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক), শাজাহান বাদশা (সদস্যসচিব), শামীমা সিকদার, অমিত হাসান, তামান্না জাহান, উম্মে ফাতিহা রিপা, জহিরুল ইসলাম জয়, জহির আরাফ, নিলুফা ইয়াসমিন, সফিকুল ইসলাম, তৌহিদুল ইসলাম, আবু তাহের, শোয়েব রহমান সজীব, নবীউল ইসলাম বাপ্পি, নবিতা প্রধান, সুস্মিতা দেবনাথ বৃষ্টি, প্রান্তিক রায় ও ফারহানা জাহান। কমিটিতে উপদেষ্টা হিসেবে আছেন বাংলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মামুন অর রশীদ।
বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে জাবি শুভসংঘের উপদেষ্টা সহকারী অধ্যাপক মামুন অর রশীদ বলেন, 'এই সময় আমরা বাগান নয়, অরণ্যের জন্য আরাধনা করছি, অরণ্যই আমাদের সজীব ও মানবিক হতে উৎসাহ দেয়। বৃক্ষনিধনের প্রতিটি কুঠার-স মিল আসলে আমাদের সজীব-মানবিক চেতনা উৎপাটিত করে। সবুজ বৃক্ষ শুধু প্রকৃতির সৌন্দর্যই বৃদ্ধি করে না, আমাদের পরম বন্ধুও বটে। কিন্তু পরম এই বন্ধুকে অনেকে বুঝে, অনেকে না বুঝে অবিরাম ধ্বংস করে চলছে। ফলে প্রকৃতির ভারসাম্য দিন দিন নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। দেখা দিচ্ছে নানা ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ। এভাবে চলতে থাকলে সুন্দর এই পৃথিবী হয়তো একদিন ধ্বংস হয়ে যাবে এবং এর জন্য দায়ী থাকবে এ গ্রহের মানুষ। তাই বৃক্ষরোপণের মতো শুভ উদ্যোগের মাধ্যমে শুভসংঘ জাহাঙ্গীরনগরে যাত্রা শুরু করছে। শুভসংঘ এখানে কেবল বৃক্ষরোপণ নয়, বৃক্ষের পরিচর্যাও করবে।'

Wednesday, 13 April 2016

নুহাশপল্লীতে একদিন

সুয্যি মামার তখনো ঘুম ভাঙেনি। মৃদু আঁধারে বসন্তের হূদয় ছুঁয়ে যাওয়া মৃদু বাতাস। হিমুদের অপেক্ষায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের  কবি  জসীমউদ্দীন হলের সামনে লাল বাস। ব্যস্ত নগরজীবনের ক্লান্তির ঘুম উপেক্ষা করে হিমু সাজে ঢাকা, জাহাঙ্গীরনগর, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়সহ ঢাকার বিভিন্ন শিক্ষাপীঠে পড়ুয়া পাংশা উপজেলা ছাত্র কল্যাণ সমিতির সদস্যরা যথাসময়ে যথাস্থানে উপস্থিত। সবাই শুভসংঘের বন্ধু। কবি জসীমউদ্দীন হল থেকে সকালের নাশতা করে রওনা হলেন সবাই নুহাশপল্লীর উদ্দেশে। নগরীর বুক থেকে লাল বাস ছুটে চলল কিংবদন্তি কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের নিজ  হাতে গড়া প্রকৃতির স্বর্গরাজ্য খ্যাত নুহাশপল্লীতে। সম্প্রতি এই আয়োজন করেছিলেন বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের বন্ধুরা।
সড়কপথের দীর্ঘ বাধা পেরিয়ে অবশেষে গন্তব্যস্থানে যখন সবাই পৌঁছলেন তখন নুহাশপল্লীর প্রাকৃতিক সৌন্দর্য নিমেষেই যেন যাত্রাপথের সব ক্লান্তি দূর করে দিল। শান্ত প্রকৃতির মাঝে হুমায়ূন আহমেদের আবক্ষ মূর্তি, লীলাবতী দিঘির স্বচ্ছ পানির সৌন্দর্য, পদ্ম ফোটা পুকুরের মাঝে পাথরের মত্স্যকন্যা আর প্রাগৈতিহাসিক প্রাণীদের অনুকীর্তি যে কাউকে স্বপ্নজালে আবদ্ধ করবে। সত্যিই নিজ হাতে এক স্বপ্নজগৎ গড়ে তুলেছেন জনপ্রিয় সাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদ। বাস থেকে নেমেই কেউ লীলাবতী দিঘির পাড়ে, কেউ হুমায়ূন আহমেদের আবক্ষ মূর্তির সঙ্গে, কেউ বা মত্স্যকন্যার সঙ্গে ছবি তুলতে ব্যস্ত। তবে নূসরাত, সম্রাট, সুমনা, রিয়াজুল ও হাফিজুল যেন সবার চেয়ে একধাপ এগিয়ে। অল্প সময়ের মধ্যে সেলফি তুলে ফেসবুকে পোস্ট করতেও তাঁরা ভোলেননি। মুহূর্তগুলো ক্যামেরায় বন্দি করতে ভুল করেননি নয়া ফটোগ্রাফার সম্রাট সাকিল। নুহাশপল্লীতে ঘোরাঘুরি শেষে একসঙ্গে দুপুরের একটা জম্পেশ খাওয়ার পর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে একত্র হয় সবাই। অনুষ্ঠানে ফান বক্সের আয়োজন ছিল।
পাংশা উপজেলা ছাত্র কল্যাণ সমিতির প্রতিষ্ঠাতা ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্রলীগ সভাপতি শেখ সোহেল রানা টিপু হুমায়ূন আহমেদের স্মৃতিচারণা করেন। এ ছাড়া সাবেক শিক্ষার্থীদের মধ্যে আকরাম হোসাইন, আশরাফুল আলম ইকবাল, নেহাল হোসাইন নিজ জন্মস্থান ও ক্যাম্পাসজীবনের স্মৃতিচারণা করেন। অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক বি এম এহতেশাম। কালের কণ্ঠ শুভসংঘ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইসমাইল হোসেনকে সভাপতি ও আল-আমিনকে সাধারণ সম্পাদক করে পাংশা উপজেলা ছাত্র কল্যাণ সমিতির এক বছরের জন্য নতুন কমিটি গঠন করা হয়।